প্রাচীনকালে ও মধ্যযুগে ভারতীয় উপমহাদেশে আদিবাসী শিক্ষাব্যবস্থা আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক মতবাদে প্রভাবিত ছিল। এই শিক্ষাব্যবস্থাটি সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। বর্তমানে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত শিক্ষাব্যবস্থাটির গোড়াপত্তন ও বাস্তবায়ন করেন একজন ব্রিটিশ।
উইলিয়াম অ্যাডাম তাঁর প্রতিবেদনে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গুলোর প্রতি বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে উডের ডেসপ্যাচ তত্ত্ব ছিল ব্রিটিশ শাসক কর্তৃক বাংলার শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিকীকরণ। তিনি ১৮৫৫-৫৬ খ্রিষ্টাব্দের দিকে তার তত্ত্বের সুপারিশ অনুযায়ী পাবলিক ইন্সট্রাকশন বিভাগ নামে নতুন বিভাগ চালু করা হয়। উক্ত বিভাগে ইন্সপেক্টর মর্যাদার একটি পদ সৃষ্টি করা হয়।
লর্ড কার্জন প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার জন্য আইন পরিষদে একটি বিল উৎথাপন করেন। তবে বিলটি খারিজ হয়ে যায় এর পরিবর্তে পৌর এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার একটি বিল পাস হয়। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে বেঙ্গল (পল্লী এলাকা) প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শিক্ষা উন্নয়নের জন্য সার্জেন্ট কমিশনের রিপোর্ট (১৯৪৪) প্রকাশিত হয়। এটাই প্রথম রিপোর্ট যাতে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলে সার্জেন্ট কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন বন্ধ হয়ে যায়।
পাকিস্তান আমল (১৯৪৭-১৯৭১)
ভারত বিভক্তির পর সার্বজনীন বাধ্যতামূলক এবং বিনা মূল্যে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য একটি রেজুলেশন জাতীয় শিক্ষা সম্মেলনে (১৯৪৭) উপস্থাপন করা হয়। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সরকার জেলা স্কুল বোর্ড ভেঙ্গে দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসনিক, নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের উপর ন্যস্ত করেন। সাবেক জেলা স্কুল ইন্সপেক্টররা জেলা প্রশাসকের অধীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে বেঙ্গেল পল্লী এলাকা প্রাথমিক শিক্ষা আইন সংশোধন করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার জন্য সরকার পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ৫ হাজারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নির্বাচন করে। বাকি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দ পযর্ন্ত প্রাথমিক শিক্ষা ৪ বছর মেয়াদী কোর্স ছিল। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে প্রাথমিক শিক্ষাকে ৫ বছর মেয়াদী কোর্স করা হয়। পরর্বতী সময়ে বাধ্যতামূলক ও অবাধ্যতামূলক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অতঃপর ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ৫ হাজারটি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা পরিচালনাকারী বিদ্যালয়ের নাম পরির্বতন করে ‘মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামকরণ করা হয়। বাকিগুলো অ-মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে পরিচালিত হয়। মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অ-মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ও তত্ত্বাবধান করতে পারতেন।
প্রথম পঞ্চবাষির্ক পরিকল্পনায় সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগকে গুরুত্ব দেয়া হয়। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। উক্ত কমিশন পরবর্তী ১৫ বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ বছর মেয়াদী কোর্সে উন্নীত করার সুপারিশ করেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষক, অভিভাবকদের মাঝে মডেল ও অ-মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। ফলে মডেল এবং অ-মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ ফ্রি প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হয়। ঐ প্রকল্পের আওতায় সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি প্রশাসনের আওতায় অধীনস্ত করা হয় এবং শিক্ষকদের তাদের নিজ নিজ যোগ্যতা অনুসারে বেতন-ভাতাদি প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ আমল
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সবল নেতৃত্বে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ জয়লাভ করে। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে প্রাথমিক শিক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রাষ্ট্রের বিধানগুলো হলো:
উল্লেখ্য যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর শিক্ষা পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি স্বাধীন জাতি হিসাবে বাংলাদেশ আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়।
বাংলাদেশের শিক্ষা কমিশন:
১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার জন্য নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যাবলী নির্ধারণ করা হয়:
(১) শিশুদের নৈতিক মানসিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব বিকাশের উন্নয়নে শিক্ষাদান।
(২) শিশুকে দেশ প্রেম, দায়িত্বশীল, অনুসন্ধিৎসু ও আইন পরায়ন নাগরিক হিসেবে তৈরি করা এবং তাদের সততা, সঠিক আচরণ, শ্রম, মর্যাদা, ন্যায় বিচারের প্রতি দয়ালু এমনভাবে বিকাশ সাধন।
(৩) মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে পারবে এবং গণনা ও হিসাব করতে সক্ষম হবে।
(৪) ভবিষ্যৎ নাগরিকের চাহিদা পূরণে মৌলিক জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।
(৫) পরবর্তী পর্যায়ের উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রস্তত করা। এছাড়াও নতুন একটি জাতির আশা থাকা লক্ষ্য পূরণে শিক্ষা অত্যাবশ্যকীয়। এই লক্ষ্যে শিক্ষা কমিশন পূর্বেই প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারকে নিম্ন লিখিত সুপারিশ করেন:
অত:পর সরকারি পৃষ্ঠ পোষকতা ও দিক নির্দেশনার মধ্য দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা গতিশীল হয়।
প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা:
একটি দেশের আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ:
মোট কথা শিশুদের আগামী দিনের জন্য দক্ষ করে গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই সরকারের পাশাপাশি শিক্ষা সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকরা হতে হবে।
ছবি | নাম | মোবাইল নং | ই-মেইল |
---|---|---|---|
![]() |
শাহাদাৎ হোসেন | 01724763344 |
ছবি | নাম | মোবাইল নং | ই-মেইল |
---|
ক্রমিক নং | শ্রেণির নাম
|
ছাত্র | ছাত্রী |
---|---|---|---|
০১ |
|
|
|
০২ | শিশু শ্রেণি | ১২ জন | ৫ জন |
০৩ | প্রথম শ্রেণি | ১১ জন | ১১ জন |
০৪ | দ্বিতীয় শ্রেণি | ৫ জন | ১৪ জন |
০৫ | তৃতীয় শ্রেণি | ৮ জন | ১৮ জন |
০৬ | চতুর্থ শ্রেণি | ১৪ জন | ১২ জন |
০৭ | পঞ্চম শ্রেণি | ৮ জন | ৬ জন |
প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:-
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন সফল হতে চলেছে। এমতাবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন অত্যন্ত আবশ্যকীয়। কেননা প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগতমান অর্জন হলে সর্বক্ষেত্রে এর সফল প্রভাব পড়বে। অন্যথায় দেশের অগ্রগতি বাধার সম্মুখীন হতে পারে। এমতাবস্থায় নিম্নবর্নিত চাহিদাসমূহ পূরণ করণ জরুরি:
এভাবেই গড়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ।
শাহাদাৎ হোসেন
প্রধান শিক্ষক
ঘুঘুরচপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
শাহরাস্তি, চাঁদপুর।
মোবাঃ 01724763344
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস